Showing posts with label bird best food .bird care. Show all posts
Showing posts with label bird best food .bird care. Show all posts

Thursday, 15 March 2018

পাখির গ্রীট্ এর প্রয়োজনীয়তা বা কেন লাগে-গ্রীট্ এর কাজ

গ্রীট
আমাদের দেশে যে বা যারা পাখি পোষেন তাদের মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন থেকে যায় পাখির কি গ্রীটে্র প্রয়োজন আছে।শুধু তাই নয় ,এ নিয়ে প্রচুর মতভেদ ও আছে ।কিছু পাখি সংক্রান্ত ম্যাগাজিনে বলতে দেখা গেছে যারা পাখি পোষেন তাদের পাখি বহু বছর সুস্থ সবল থাকে গ্রীট ছাড়াই। আবার অনেকে বলেছেন পাখির জন্য গ্রীটে্র প্রয়োজনও আছে।যাইহোক,আমার মনে হয় গ্রীট কি,কি কাজে লাগে,এর সুবিধা অসুবিধা কি হতে পারে পাখিকে দিলে,এবং দিলেও দেওয়া উচিত না অনুচিত ,আবার দিলে কতটা দিতে হবে তার মোটামুটি একটা ধারণা করা যেতে পারে।
       গ্রীট্ বলতে সাধারণত কাঁকর, পাথরের শক্ত কণিকা সমূহ,বালি এবং পাথরের কুচি প্রভৃতিকে বোঝায়গ্রীট্ প্রাথমিকভাবে খনিজও বালি ভূমির উপর ভিত্তি করে তৈরী করা হয়।গ্রীট এখানে grinding এর কাজ করে। গ্রীটে্র সাহায্যে পাখির খাদ্য থলিতে থাকা শস্যদানার খোসা ছেড়ে যায় এবং শস্যদানার ভেতরের অংশও কোন কোন সময়ে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। তখন digestive enzyme এর কাজে সুবিধা হয়। গ্রীট্কে প্রধানত: দুভাগে ভাগ করা যায়। (১) অদ্রবণীয়(insoluble) এবং (২) দ্রবণীয় (soluble)
 অদ্রবণীয় গ্রীট্ (insoluble): পাথরের ছোট ছোট টুকরোই হল অদ্রবণীয় গ্রীট্। যা পাখির শরীরে ভেতরে হজম হতে পারেনা।এই গ্রীট্ পাখির শরীরে থেকে যায় এবং অবশেষে মল মূত্রের সাথে বেরিয়ে জায়। যেমন বালি, বেলে পাথরের টুকরো।
 দ্রবণীয় গ্রীট্ (soluble): দ্রবণীয় গ্রীট হল জৈবিক পদার্থ। যেমন সমুদ্রের ফেনা,ঝিনুকের গুঁড়ো, ইত্যাদি। এই ধরনের গ্রীট্ পাখির শরীরে জমা হলে কোন ক্ষতি না করে acid-এ হজম হয়ে জায়। দ্রবণীয় গ্রীট্ প্রধানত: পাখির শরীরে calcium –এর জোগান দেয়। তবে অবশ্যই এই গ্রীট্ ব্যবহারের আগে ভাল করে হাত ধুয়ে দেওয়া উচিত। তা না হলে নোংরা দূষিত জায়গা থেকে আনা হলে পাখির শরীরে বিষক্রিয়া ঘটতে পারে।
গ্রীট্ এর কাজ : (১) খোসা সমেত শস্যদানাকে হজম করতে গ্র্র্রীট্ পাখিকে সাহায্য করে।  
(২) পাখির শরীরে হজম কারক রস (digestive enzymes) শস্যদানার খোসার ভিতরের অংশের ওপর খুব সহজেই কাজ করতে পারে ।
পাখির গ্রীট্ এর প্রয়োজনীয়তা বা কেন লাগে :  যে সমস্ত পাখি খোসা সমেত শস্যদানা যেমন ঘুঘু, মুরগি,পায়রা ইত্যাদি তাদের গ্রীট্ লাগবেই। কিন্তু, অনেকের মতে,Parrot, Parakeet এবং Finch জাতীয় পাখির গ্রীটে্র দরকার হয় না।কিন্তু , আমার মতে (১) সব পাখিকে গ্রীট্ দেওয়া উচিত তবে দ্রবণীয় গ্রীট্। কারণ দ্রবণীয়গ্রীট্ পাখির শরীরে acid –এ গলে যায় ফলে আভ্যন্তরীণ কোন অংশে আটকে গেলে কোন অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে না ।
(২) যদি অদ্রবণীয় গ্রীট্ হয় তাহলে তা finch পাখির জন্য। ১-২ মিলিমিটার ব্যাসের এবং বড় পাখির জন্য ২-৫ মিলিমিটার মাপের হতে হবে,তা না হলে অনেকগুলি অসুবিধার সৃষ্টি হতে পারে।
পাখির গ্রীট্ : পক্ষিপালক বন্ধুরা আমরা পাখি পোষার যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি সেখানে বড় এবং ভাল কোন সংস্থা দায়িত্বের সঙ্গে সঠিক মাপের অদ্রবণীয় গ্রীট্ তৈরী সম্ভব নয়।তাই পাখির যাতে ভালো হয় তারজন্য মোটামুটি একটা গ্রীট্ তৈরী করা যেতে পারে। যেমন
(১)  মোটা দানা বালি ১ কিলো ।
(২) সমুদ্রের ফেনা ৭০০ গ্রাম।
(৩) ঝিনুকের গুঁড়ো ৪০০ গ্রাম।
(৪) সন্দক নুন ৫০ গ্রাম।
(৫) বিট নুন ৫০ গ্রাম। এবং
(৬) কাঠ কয়লা ২০০ গ্রাম। একটা কথা অবশ্যই মনে রাখা দরকার যে , কাঠ কয়লা কেনার সময়ে সবথেকে হাল্কা ধরণের কিনতে হবে। কেননা কাঠ কয়লা হজমের কাজে সাহায্য করলেও আবার বেশী কাঠ কয়লা খেয়ে ফেললে শরীরে vitamin A,B12 এবং এর অভাব দেখা দেবে।তাই গ্রীটে্ কাঠ কয়লা মাসে একবার ব্যবহার করাই ভাল।

পাখির বাচ্চার খাবার -সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

পাখির বাচ্চার খাবার

আমরা প্রত্যেকেই জানি পৃথিবীতে সমস্ত প্রাণীদের দেহ লক্ষ লক্ষ কোষ (cell)দিয়ে গঠিত । আর এই কোষ তৈরী হওয়ার জন্য যা প্রয়োজন তা হল প্রোটিন , কার্ব হাইড্রেট , ফ্যাট , ভিটামিন এবং মিনারেলস এর সঠিক ভাগ । এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল প্রোটিন । পাখিকে শস্যদানার সাথে সাথে আমরা অনেক রকম নরম খাবার দিই যেমন ভাত , চিঁড়ে , ডিম সিদ্ধ , ছোলা , মুগ , ভুট্টা প্রভৃতি । বদ্রিকা , ককটেল টেল , লাভবার্ড ইত্যাদি পাখিদের অঙ্কুরিত খাদ্য এবং তার বাচ্চাকে নরম খাবার দিলে ভাল ফল পাওয়া যায়। অনেকের ধারণা বাচ্চাকে নরম খাবার খাওয়াতে পাখি মা-বাবার সুবিধা হয় । কিন্তু কেবল সুবিধা দেখলে হবে না দেখতে হবে সেই খাবার সুষম কিনা অর্থাৎ পাখির বাচ্চার বেড়ে ওঠায় তা কতটা  সাহায্য করে । অবশ্য শুধু ভাত , চিঁড়ে , বিস্কুটের থেকে ভেজানো ছোলা ইত্যাদি অনেক উপকারী । আবার তার থেকে উপকারী ডিম সিদ্ধ । কেবল পাখির বাচ্চার জন্য নয় adultপাখিকেও নিয়মিত নরম খাবার দেওয়া উচিত ।

  পাখি বা তার বাচ্চার সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকতে এবং বেড়ে উঠতে গেলে প্রয়োজন সুষম balanced  খাবার যা তারা সহজে হজম করে শরীরের কাজে লাগাতে পারে । আমার মতে যে কোন অঙ্কুরিত শস্য এমন এক সুষম খাবার যার মধ্যে Protine  , Vitamin ,Minarels , Enzyme (হজম কারক রস) এমন সুন্দর ভাগে থাকে যা পাখিদের যে কেবল খেতে ভাল লাগে তা নয় , তাদের শরীরকে সুস্থ  ও সবল রাখতে এবং জীবাণুর সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে । আমরা পাখিকে যে সমস্ত খাদ্যশস্য খেতে দিই সেইসব খাদ্যশস্য ভিজিয়ে অঙ্কুরিত করলে তারমধ্যে এসবের পরিমাণ বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পায় । শুধু তাই নয় বেশ কিছু amino acide যা পাখির প্রয়োজন এবং এমন কিছু এনজাইম তৈরী হয় যা হজমে সাহায্য করে ।

অঙ্কুরিত খাবার


 আমরা যে সমস্ত খাদ্যশস্য অঙ্কুরিত করতে পারি সেগুলি হল ১। চীনা বাদাম ২। ব্ল্যাক সীড ৩। সানফ্লাওয়ার সীড ৪।সরষে ৫। ছোলা ৬। মুগ ৭। মুসুর ৮। ভুট্টা ৯। গম প্রভৃতি ।

 কি করে অঙ্কুরোদগম করা যায় :-

প্রথমে হাল্কা গরম জলে যে খাদ্যশস্য কে অঙ্কুরোদগম করা হবে তাকে ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে । কেননা কোন ধরণের পোকা মারার ওষুধ দেওয়া থাকলে তা বেরিয়ে যায় ।এরপর একটা বড় কানা উঁচু থালায় জেল রেখে তার মধ্যে একটা ছোট পাত্র রাখতে হবে । সেই ছোট পাত্রের মধ্যে একটা সুতির কাপড় রাখতে হবে যার চারিধার থালার জলের মধ্যে ডুবে থাকবে । ভেজানো শস্য এই কাপড়ের মধ্যে অঙ্কুরোদগম হচ্ছে দেখা যাবে । এই অবস্থায় ভাল করে ধুয়ে যে কোন ধরণের পাখিকে খেতে দেওয়া যেতে পারে ।  
  এছাড়া এই অঙ্কুরিত শস্যকে জৈবসার দেওয়া মাটিতে দিয়ে আলোতে রেখে রোজ একটু করে জল দিলে ৫-৭ দিনের মধ্যে দেখা যাবে ছোট ছোট সবুজ পাখির দিলে অঙ্কুরিত শস্যের সঙ্গে সঙ্গে নিজের হাতে তৈরী কীটনাশক মুক্ত সবুজ খাদ্য ও পাখিকে দিতে পারা যাবে । এছাড়া পাখিরা সবুজ দেখে মনের আনন্দে খাবে এবং তারা শারীরিক ভাবে প্রভূত উন্নতি হচ্ছে ।

নরম খাবার

 আমরা যে সমস্ত নরম খাবার পাখির বাচ্চা কে দিই সেগুলি হল (ক) ১। এক কাপ ভাত ২। গাজর ১ ইঞ্চি ৩। পেঁপে ।
     এই খাবার বানানোর পদ্ধতি হল - ১ ইঞ্চি মাপের গাজর নিয়ে প্রথমে তার ওপরের খোসা ছুরি দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে হবে । এরপর গাজরটিকে কুচি কুচি করে কেটে ফুটন্ত গরম জলে ফেলে দিতে হবে । ২-৩ মিনিট পরে জল থেকে ছেঁকে নিয়ে ঠাণ্ডা করতে দিতে হবে । এরপর পেঁপের টুকরোটি নিয়ে ছোট ছোট করে কাটতে হবে খোসা সমেত । তারপর এই গাজর ও পেঁপের টুকরো ভাতের সঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে দিতে হবে ।
(খ) ১। ৩-৪ কাপ চিঁড়ে ২। ১ টা সিদ্ধ ডিম ৩। ১/২ কাপ অঙ্কুরিত ছোলা , গোটা মুগ ইত্যাদি । ৪। যে কোন শাকের ১০-১২ টি পাতা ।
  পদ্ধতি – চিঁড়ে খুব ভাল করে ধুয়ে তার মধ্যে ১ কাপ ফুটন্ত গরম জল ঢেলে দিতে হবে । এরপর ১৫-২০ মিনিট ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করার জন্য ঠাণ্ডা জলে ফেলে দিতে হবে । ডিম ঠাণ্ডা হলে খোলা grater এ ঘষলে ডিমের সাদা অংশ এবং কুসুম সরু সরু টুকরোয় পরিণত হবে । এরপর অঙ্কুরিত ছোলা বা গোটা মুগ থেঁতো করে নিতে হবে এবং শাকের পাতাগুলি কুচি কুচি করে কেটে চিঁড়ে , ডিম , শাক , ছোলা বা মুগ এর সঙ্গে একসাথে ভাল করে মিশিয়ে দিতে হবে । তাহলেই সুস্বাস্থ্য সুষম নরম খাবার পাখির জন্য তৈরী হয়ে যাবে ।
(গ) ১। দুটো ডিম সিদ্ধ ২। চারটি থিন এরারুট বিস্কুট ৩। দেড় ইঞ্চি গাজর এবং ৪। ২ ইঞ্চি- আড়াই ইঞ্চি খোসা সমেত পেঁপে ।
 পদ্ধতি – প্রথমে ডিম দুটোকে ১৫-২০ মিনিট সিদ্ধ করে ঠাণ্ডা করার জন্য তুলে রেখে দিতে হবে । বিস্কুট গুলোকে হাতে মিহি করে গুঁড়ো করে নিতে হবে । এরপর গাজরের টুকরোটি ও পেঁপের টুকরোটিকেও grater এ ঘসে ফুটন্ত গরম জলে ২-৩ মিনিট রেখে ভাল করে ছেঁকে নিতে হবে । এরপর সিদ্ধ ডিমের খোসা ছাড়িয়ে ডিমটিকেও grater এ ঘসে নিতে হবে । তারপর ঘসা ডিমের মধ্যে বিস্কুটের গুঁড়ো গাজর ও পেঁপে দিয়ে কাঁটা চামচ দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে দিতে হবে ।
(ঘ) ১। দেড় কাপ মোটা চিঁড়ে ২। ১ টা সিদ্ধ ডিম এবং ৩। তরকারীর-খোসা ।
 খাবার বানানোর পদ্ধতি – চিঁড়ে ভাল করে ধুয়ে তাতে ফুটন্ত গরম জল দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে । ডিমটি ভাল করে সিদ্ধ করে নিয়ে তারপর তরকারীর খোসা ভাল করে ধুয়ে প্রেসার কুকারে সিদ্ধ করে নিয়ে সুতির কাপড়ে ছেঁকে নিতে হবে। এরপর ভেজানো চিঁড়ে এবং ডিম সিদ্ধ grater এ ঘসে একসঙ্গে ভাল করে মিশিয়ে দিলেই তৈরী হয়ে যাবে বাচ্চার সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টিকর নরম খাবার ।
   এইরকম অনেক ধরণের পুষ্টিকর নরম খাবার ও অঙ্কুরিত খাদ্যশস্য পাখির ও বাচ্চার জন্য বানান যেতে পারে এবং এর সাথে সবরকম শাক যেমন- কলম, পালং , থানকুনি,তুলসী ইত্যাদি অল্প পরিমাণে মেশানো যেতে পারে । আমার মতে অঙ্কুরিত শস্য মিশিয়ে দেওয়া যায় । কিন্তু ফিঞ্চ বা স্প্যারো জাতীয় পাখির জন্য থেঁতো করে দেওয়ায় ভাল ফল পাওয়া যাবে ।
     আশাকরি এই পদ্ধতিতে সঠিক খাবার প্রয়োগ করলে পাখি মা-বাবার শরীর এবং বাচ্চার লালন পালনে কোন অসুবিধা হবে না বা শরীরে যে ক্ষয় হয় তা রোধ করা সম্ভব । 

গ্রীষ্মকালে পাখির পরিচর্যা - গরমকালে পাখিকে সুস্থ রাখতে আমাদের কিছু কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে

গ্রীষ্মকালে পাখির পরিচর্যা
আমরা প্রত্যেকেই পাখি পুষতে ভালোবাসি । বিশেষ করে বিদেশী খাঁচার পাখিদের ।খাঁচায় পাখি পোষা এবং তাদের কাছে থেকে তাদের ডাক ও গান শুনতে এবং তাদের যে সৌন্দর্য উপভোগ করার মধ্যে সত্যি একটা দারুণ সুন্দর আনন্দ আছে । আমার মতে শুধু পাখি পুষলেই যে তার আনন্দ উপভোগ করা যাবে তা কিন্তু নয় । এই পাখিকে সুস্থ ও সবল এবং চনমনে রাখার জন্য আমাদের প্রথম কাজ হল পাখির যত্ন । অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে গরম কালে পাখির যত্ন বা পাখিকে আমরা কিভাবে পরিচর্যা করব । আমদের দেশ সাধারণত: গ্রীষ্ম প্রধান হওয়ায় বিদেশী পাখিদের একটু সাবধানে রাখতে হবে এবং বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে । তাই গরমকালে পাখিকে সুস্থ রাখতে এবং হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা করতে হলে আমাদের কিছু কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে । যেমন-

১। গরমকালে বেশী গরম হলে পাখিকে বারে বারে সময়মত অর্থাৎ সকাল ১০ টা থেকে ১২ টার সময় স্নান করাতে হবে যাতে পাখির শরীর অতিরিক্ত গরম না হয়ে যায় এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে এবং ঠাণ্ডা লাগার সম্ভবনা কম থাকবে ।
২। পাখিকে সবসময় ঠাণ্ডা জল খেতে দিতে হবে এবং লক্ষ্য রাখতে হবে সময়মত পাখিটি সঠিক পরিমাণে জল খাচ্ছে কিনা ।
৩। পাখিকে কেবলমাত্র মাটির তৈরী পাত্রেই জল দিলে ভাল হয় । যেমন মাটির হাড়ী বা বড় কোন পাত্রে জল দিলে জল অনেকক্ষণ পর্যন্ত ঠাণ্ডা থাকে । ফলে পাখি সেই ঠাণ্ডা জল খেলে শরীর সুস্থ থাকে ।
৪। গরমকালে পাখিকে সবসময় ঠাণ্ডা ও পরিষ্কার জল দেওয়া উচিত ।

৫। মাটির পাত্রে জল দেওয়ার পর পাত্রটিকে যেকোনো সুতির কাপড় বা লাল শালু কাপড় জড়িয়ে রেখে দিলে জল অনেকক্ষণ পর্যন্ত জল ঠাণ্ডা থাকবে ।
৬। আবার অনেকসময় গরমে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পাখিকে ডাবের জলও খাওয়ানো যেতে পারে ।কারণ খুব গরমে ডাইরিয়া এবং বার্ড ফ্লু ও ভাইরাস জনিত রোগ হওয়ার সম্ভবনা বেশী থাকে । তাই পাখিকে ডাবের জল , নুন চিনির জল এবং তার সাথে কিছু অল্প পরিমাণে গ্লুকোজ দিলে পাখির শরীর তুলনামূলক ভাবে ঠাণ্ডা থাকবে।আপনি ব্যবহার করতে পারেন Aloe vera যদি ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয় তাহলে সঠিক সময়ে ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্যালাইন ও ইলেক্ট্রোলাইট অবশ্যই দিতে হবে । 


৭। আবার যদি দেখা যায় পাখির সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বেশী থাকে তাহলে একটি বড় মাপের মাটির পাত্রে জল দিলে পাখিদের জল খাওয়ার সুবিধা হবে এবং যদি প্রয়োজন হয় তাহলে খাঁচার বাইরে একটি টেবিল ফ্যান লাগিয়ে দিলে জল ও পাখির ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে ।
৮। পাখির খাবার জল বার বার পাল্টে দিতে হবে কেননা নোংরা জল খেলে পাখির কোন সংক্রামক রোগের সৃষ্টি হতে পারে । তাই সকালের জল বিকেলে পাল্টে দিতে হবে এবং বিকেলের জল রাত্রে পাল্টে দিয়ে আবার নতুন করে পাত্রটিকে পরিষ্কার করে পরিষ্কার জল দিতে হবে ।
৯।পাখিকে প্রতিদিন চান করাতে হবে এবং পাখিদের  জল সমেত একটি প্লাস্টিকের পাত্র এমন ব্যবস্থা করতে হবে তারা তাদের ইচ্ছে অনুযায়ী স্নান করতে এবং বসতে পারে
১০। পাখিকে খুব গরমে ১ টি করে সবুজ শাক-সব্জি এবং মৌসুমি ফলের রস পাখিকে দিলে ভাল ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া অন্যসময়ে পাখিকে যে পরিমাণে প্রোটিন , ভিটামিন এবং মিনারেলস জাতীয় খাবার দেওয়া হত তার পরিমাণ গরমে খুব অল্প পরিমাণে দেওয়া উচিত । এছাড়া তৈলাক্ত জাতীয় খাবার যেমন সূর্যমুখী , তিল ও সরিষার পরিমাণও কম দিলে পাখি সুস্থ থাকবে। 
১১। অতিরিক্ত গরমে পাখিদের রোগ জীবাণুর সক্রমনের সম্ভবনা বেশী থাকে । তাই এই সংক্রমণের হাত থেকে পাখিদের রক্ষা করার জন্য মাসে ২ থেকে ৩ দিন গরম জলে নিমপাতা সিদ্ধ করে জল ঠাণ্ডা করে সেই জল দিয়ে পাখিকে স্নান করালে পাখির শরীরে যদি কোন সংক্রমক জীবাণু থেকেও থাকে তা রোধ করা সম্ভব হবে বলে আমার ধারণা ।
১২। পাখির খাঁচা বা পাখির ঘর গরমকালে অতিরিক্ত গরম না হয় তারজন্য খাঁচার বাইরে exhaust fan  এর ব্যবস্থা করতে হবে যাতে পাখির ঘরের তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার তুলনায় কম থাকে ।
       আমার মতে এই সমস্ত কিছু লক্ষ্য করে গরমকালে পাখিদের দেখাশোনা ও যত্ন করলে পাখি সুস্থ , সবল ও চনমনে থাকবে 

Wednesday, 14 March 2018

খাঁচার পাখি পোষার জরুরী কথা -পাখি পোষার সময় কি কি করা উচিত


আমাদের দেশে বিদেশী খাঁচার পাখি দেখে অনেকেরই মনের সুপ্ত ইচ্ছা জেগে ওঠে । ভাববে এবার তাহলেই বাড়ীতেই খাঁচায় রাখতে পারব এইসব পাখিকে ।যত্ন করতে পারব এবং সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে পারব । আবার অনেকে বাণিজ্যিক দিক থেকে ভাববে স্বল্প পুঁজিতে একটা ব্যবসা শুরু করা যাবে ।সবই ঠিক কোনটাতেই কোন অসুবিধা নেই । মনে ইচ্ছা থাকলে সব কিছুই করা সম্ভব । পাখি পোষা এবং বাড়ীতে তার বাচ্চা পাওয়ার মধ্যে সত্যিই এক দারুণ আনন্দ আছে । সারা ভারতবর্ষ জুড়ে খাঁচায় প্রজনন করা বিদেশী পাখি কেনা বেচা হয় । কিন্তু একথা সকলের মনে রাখা এবং গর্ব করা উচিত বিদেশী খাঁচার পাখির বাচ্চার জন্মের হার সারা ভারতবর্ষের মধ্যে প্রথম । কিন্তু কয়েকটা কথা অবশ্যয়ই মনে রাখতে হবে পাখি পোষার সময় কি কি করা উচিত , কোনটা করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে । সেগুলি নিচে আলোচনা করা হল –



১। পছন্দের পাখি কিনে বাড়ীতে নিয়ে আসার আগে জানতে হবে পাখির দাম , কি খায় , কি রকম খাঁচায় সেই পাখির উপযুক্ত , কি রকম খাবার খেতে দিতে হবে সেগুলোর নাম এবং কি রকম জায়গায় রাখলে পাখি শারীরিক ভাবে ঠিক থাকবে । এর সব গুলোই যদি ঠিকভাবে করতে পারা যায় তবেই পাখি পোষা উচিত ।
২। যে বা যারা পাখি পুষবেন সারাদিন তিনি কতটা সময় ফাঁকা পান এবং সেই সময়ের মধ্যে পাখির পরিচর্যা সম্পূর্ণ করা সম্ভব কিনা ।
৩। পাখি পোষা মানে সপ্তাহের ৭ দিন , মাসে ৩০ দিন এবং বছরে ৩৬৫ দিন পাখির পরিচর্যা করা ।
৪। বাড়ীতে পাখি আছে অথচ বাড়ীর সকলে ৩-৪ দিনের জন্য বেড়াতে যাবেন তা কিন্তু একেবারেই সম্ভব নয় । এছাড়া পাখিকে বেশী খাবার ও জল দিয়ে দিলেই হবে ভাবলে যে কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বা নোংরা খাবার ও জল খেয়ে পাখি অসুস্থ হতে পারে এমনকি পাখিটি মারা যেতেও পারে ।
৫। পাখিকে খেতে দেওয়ার আগে ভাল করে হাত ধুয়ে নেওয়া উচিত । এমনকি আমার মতে বড় নখের ফাঁকে ময়লা থাকলে তা পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত । এছাড়া রাস্তার জুতো পরে পাখির কাছে যাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

৬। পাখির বাসন কখনই সাবান জলে ধোয়া উচিত নয় আর ধুলেও পরিষ্কার গরম জলে নুন দিয়ে খুব ভাল করে ধুয়ে সাবান বের করে দেওয়া উচিত । কেননা সাবান পাখির পেটের পক্ষে ভাল নয় ।
৭। পাখিকে ভুল করে কখন চা , কফি ,চকলেট , দুধ , তৈলাক্ত বা মশলা জাতীয় খাবার একেবারেই দেওয়া উচিত নয় ।

৮।পাখির খাঁচার আশেপাশে ভুল করেও ব্লিচিং পাউডার , কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয় ।
। যদি আগে থেকে কোন পাখি বাড়ীতে থাকে তা হলে পাখিটিকে আলাদা জায়গায় রেখে পর্যবেক্ষণ করা উচিত । এই পর্যবেক্ষণে রাখাকেই  Quarantine বলে ।
১০। পাখিটিকে এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে পাখিটি খুব বেশী ভয় এবং বিরক্ত না হয় ।
১১। পাখি পোষার সময় খাঁচাটিতে অবশ্যই গ্রীট রাখতে হবে ।

১২। রান্নাঘর বা বাথরুমের পাশে খাঁচা রাখা উচিত নয় কেননা রান্নাঘর এবং বাথরুমের বিষাক্ত বাতাস পাখির প্রচুর ক্ষতি করে ।  আবার অনেকে বারান্দায় পাখি রাখতে ভালবাসেন । খুব ভাল জায়গা পাখির পক্ষে । তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে , যাতে সূর্যের রশ্মি (sunrays) সোজা সুজি বেশীক্ষণ অর্থাৎ ২-৩ ঘণ্টা খাঁচায় না পড়ে ।
১৩। আরও একটি জরুরি বিষয় হল পুরো খাঁচাতে যাতে সারাদিন প্রচুর পরিমাণে হাওয়া না থাকে । প্রকৃতির হাওয়া পাখির পক্ষে বিশেষ প্রয়োজন । কিন্তু অতিরিক্ত হাওয়া সারাদিন ধরে পাখিকে অসুবিধায় ফেলে ।
১৪। বন্ধ ঘরে পাখিকে একেবারেই রাখা উচিত নয় । কেননা পাখি তাহলে প্রকৃতির থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ।
১৫। পাখিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং যেখানে গাছপালা বেশী থাকে সেখানেই পাখি পুষলে ভাল ফল পাওয়া যাবে ।
১৬। পাখি পোষার সময় একটা কথা মাথায় রাখতে হবে পাখির ঘরের ভেতরে যাতে বাইরের বাতাস ঢুকে ঘরের আবহাওয়া সুন্দর রাখে তারদিকে নজর রেখে খাঁচাটিকে সেই স্থানে রাখা উচিত ।  
      যে বা যারা পাখি সংখ্যায় কম পুষবেন তাদের ভাল করে পাখিকে দেখা সম্ভব । কিন্তু , যাদের কাছে পাখি সংখ্যায় বেশী  তাদের  রোজ ভাল করে পাখিদের দেখা সম্ভব হয় না –এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। আমার বিশেষ অনুরোধ কেবল পাখিদের ভাল ভাল খাবার দিয়ে চলে যাবেন না , একটু তাদের সঙ্গে থাকুন এবং মন দিয়ে নিজের মত করে দেখুন তাদের আরও একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে পাখি পোষার ক্ষেত্রে যদি সময় না থাকে তাহলে বেশী পাখি রাখবেন না । ঠিক যতগুলি রাখলে তাদের খেতে দেওয়া ছাড়াও একটু সময় দিতে পারবেন ঠিক ততগুলোই পাখি পুষবেন ।
© All Rights Reserved @ pet plus , Unauthorized use or reproduction for any reason is prohibited.

The important thing for pet birds

Many people in our country see the birds of a foreign cage awake. I think we can keep these cages in the house at the same time, and we c...